রাজশাহীতে শুরু হয়েছে আমের মৌসুমের প্রাণচাঞ্চল্য। জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে গুটি জাতের আম নামানো শুরু করেছেন চাষিরা। বাগানে বাগানে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। আম সংগ্রহ, বাছাই, ঝুড়িতে ভরা এবং বাজারজাতকরণ—সব মিলিয়ে রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকেই সীমিত পরিসরে গুটি আম পাড়া শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদন অঞ্চল রাজশাহীতে জমে উঠতে শুরু করেছে এবারের আমের মৌসুম।
শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ইতোমধ্যেই কাঁচা আমের দেখা মিলেছে। তবে এখন বাজারে মূলত গুটি আমই পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু ও রসালো আম বাজারে উঠতে শুরু করবে।
শুক্রবার সকালে নগরীর পবা উপজেলার কুখন্ডী ও বুধপাড়া এলাকার বেশ কয়েকটি বাগানে গাছ থেকে আম পাড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ বাগানের আম এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। তাই আরও কয়েকদিন পর পুরোদমে আম সংগ্রহ শুরু হবে।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বড় আমের বাজার বানেশ্বর হাটেও ধীরে ধীরে জমে উঠছে কেনাবেচা। বর্তমানে জাত ও আকারভেদে গুটি আম প্রতি মণ ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনেই আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। মৌসুমের শুরু হওয়ায় এখনও খুব বেশি আম বাজারে আসেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বানেশ্বর হাটে আমের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে।
অন্যদিকে আমচাষী আরিফুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি গাছ থেকে গুটি আম নামানো শুরু করেছেন তিনি। নিজেই বাজারে নিয়ে এসব আম বিক্রি করবেন। তবে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ গোপালভোগ ও হিমসাগর জাতের আমে, যা বাজারে আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
অপরিপক্ব আম বাজারজাত বন্ধ এবং আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন এবারও নির্ধারণ করেছে আম সংগ্রহের সময়সূচি। সেই অনুযায়ী আগামী ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ এবং ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি বাজারজাতের অনুমতি মিলবে। পরে জুলাই মাসে পর্যায়ক্রমে বারি আম-৪, আশ্বিনা ও গৌড়মতি সংগ্রহ করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকারও বেশি।
প্রতি বছরের মতো এবারও রাজশাহীর আম ঘিরে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সুস্বাদু ও মানসম্মত আমে ভরে উঠবে দেশের বাজার—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।