পিরোজপুরের পাড়েরহাট এলাকায় দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকার চাপে মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বাদশা। তিনি ‘মেসার্স আদিল আহনাফ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মেসার্স হাওলাদার ব্যাটারি’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। মুদি মালামাল, ইজিবাইক, ব্যাটারি ও বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।
জানা গেছে, দক্ষিণ শংকরপাশা গাজী বাড়ির বাসিন্দা এবং মো. সাদেক আলী হাওলাদারের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাদশা ২০১৯ সাল থেকে সততা ও বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন ধরে বাকিতে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে বর্তমানে তার প্রায় ৪০ থেকে ৪২ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে গেছে।
অতিরিক্ত বাকি লেনদেনের কারণে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দোকানের মূলধন কমে যাওয়ায় নতুন করে পণ্য তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং বকেয়া টাকা আদায়ের আশায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে দোকানে হালখাতার আয়োজন করা হয়। কিন্তু প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ী শুক্রবার সকাল থেকেই মাইক ভাড়া করে পাওনাদারদের প্রতি টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানাতে শুরু করেন।
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, “বিশ্বাসের জায়গা থেকে মানুষকে বাকিতে পণ্য দিয়েছি। কিন্তু এখন অধিকাংশ মানুষ সময়মতো টাকা পরিশোধ করছেন না। এতে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বকেয়া টাকা আদায় না হলে আরও বড় সংকটে পড়তে হবে।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাইকিং করে পাওনাদারদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বাকিতে পণ্য কেনাবেচার একটি প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে। অনেক সময় পরিচিতি ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বাকিতে পণ্য দেন। কিন্তু সময়মতো পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েন।
সচেতন মহলের মতে, সুস্থ ব্যবসা ব্যবস্থা বজায় রাখতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি। প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত বাকিতে লেনদেন না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কারণ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুধু একজন ব্যবসায়ীর নয়, এর সঙ্গে জড়িত থাকে পরিবার, কর্মচারী এবং স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ।
সময়মতো লেনদেন সম্পন্ন হলে যেমন ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়ে, তেমনি অর্থনৈতিক কার্যক্রমও গতিশীল থাকে। তাই সকলের সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই পারে এ ধরনের সংকট থেকে ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে।