তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপাতি বিজয়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তার প্রাক্তন প্রেমিকা অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে নাম জড়ানো এবং নির্বাচনের পর তার দলের সাফল্যে তৃষার উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা।
এ পরিস্থিতিতে জ্যোতিষী বেনু স্বামী থালাপাতি বিজয় ও তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্ক এবং বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, বিজয় ও তৃষার জন্মনক্ষত্র ও গ্রহগত অবস্থান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। তার ভাষায়, “তৃষা যদি বিজয়ের জীবনে না থাকতেন, তাহলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তার সাফল্যের ধারা ভিন্ন হতে পারত।” তিনি আরও দাবি করেন, তাদের সম্পর্ক জ্যোতিষশাস্ত্রে ‘একনাড়ি কম্বিনেশন’ বা ‘নাড়ি দোষ’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত, যা একদিকে বড় সাফল্য আনতে পারে, আবার অপ্রত্যাশিত জটিলতাও তৈরি করতে পারে।
জ্যোতিষীর মতে, এই যোগ বিজয়ের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব যেমন ফেলতে পারে, তেমনি ভবিষ্যতে কিছু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কেঝাগম (টিভিকে) ১০৮টি আসন লাভ করেছে। তার এই সাফল্য ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তবে জ্যোতিষীর এসব মন্তব্য নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে—একাংশ এগুলোকে অতীত ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন, অন্যদিকে অনেকে এটিকে প্রচারণামূলক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে থালাপাতি বিজয় সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ও বিতর্ক ছড়ালেও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিজয় ও তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন নতুন নয়। ২০০৫ সালের ‘গিলি’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের ঘনিষ্ঠতার কথা শোনা যায়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ‘কুরুভি’ সিনেমাতেও তারা একসঙ্গে অভিনয় করেন, তবে এরপর আর একসঙ্গে দেখা যায়নি।
এদিকে জ্যোতিষী বেনু স্বামী আরও দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের সরকারের স্থায়ীত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। তার মতে, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে পরিবর্তন বা পুনর্নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে এসব বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে কেবল অনুমানভিত্তিক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছেন।