লিবিয়ার ভূমধ্যসাগর উপকূল থেকে দুই বাংলাদেশিসহ তিন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি এবং একজন মিশরীয় নাগরিক রয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
পূর্ব লিবিয়ার আজদাবিয়া শহরের নিরাপত্তা অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পালিয়ে আসা এক মিশরীয় অভিবাসীকে উপকূলীয় শহর বিশরের কাছে ক্লান্ত ও দিশেহারা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে অভিবাসীদের আটকে রাখার কয়েকটি গোপন স্থানের সন্ধান পায়।
অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১২০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে, বন্দি অভিবাসীদের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাদের ওপর চাবুক ও মারধর চালিয়ে পরিবারের কাছে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাতে বাধ্য করা হতো। সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হতো অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছিল। অভিযানের একপর্যায়ে আজদাবিয়া শহর থেকে প্রায় ১২২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বিশর উপকূলে দুই বাংলাদেশি ও এক মিশরীয় অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপগামী অনিয়মিত অভিবাসন চেষ্টার সময় তারা মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর বহু অভিবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ পথে মানবপাচার, নির্যাতন, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।