২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে অবশেষে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এই নিয়োগ কার্যকর করে বুধবার (১৩ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত এসব প্রার্থীকে আগামী ১৮ মে-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত দপ্তরে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে তাকে চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই ক্ষেত্রে তার নিয়োগ আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা বা সিনিয়রিটি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তাদের নিয়োগ ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপন যেদিন জারি করা হয়েছিল, সেই তারিখ থেকেই এই নিয়োগকে ভূতাপেক্ষিক (retrospective)ভাবে কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ ব্যাচভিত্তিক নিয়োগের প্রথম প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বহাল থাকবে। তবে এই ভূতাপেক্ষিক কার্যকারিতার কারণে কোনো ধরনের বকেয়া আর্থিক সুবিধা তারা পাবেন না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৩৫৬৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সেই প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করা হয় এবং নতুন করে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে তখন উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আদালতে রিট আবেদন করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।
পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ নিয়োগবঞ্চিত মোট ১ হাজার ১৩৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৭তম বিসিএসের নিয়োগবঞ্চিত ৬৭৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২৭তম বিসিএসের এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ বিচারিক জটিলতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও একাধিক পুনর্বিবেচনার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। ২০০৭ সালে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের পর থেকে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের রায় ও নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সরকারের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের একটি বড় অংশ পুনরায় সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোতেও এই নিয়োগের মাধ্যমে শূন্যতা পূরণের একটি ধাপ সম্পন্ন হচ্ছে।