বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অসংগতি দূর করা, পাঠ্যসূচির সংশোধন এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নানা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলটির মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি তুলে দেন। পরে মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ইসলামী ফ্রন্টের নেতারা। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ড. অধ্যক্ষ এ কে এম মাহবুবুর রহমান, ড. অধ্যক্ষ ঈসমাইল নোমানী, অধ্যক্ষ মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী, অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসান, মুহাম্মদ আবদুল হাকিম ও নাসির উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা মনে করছেন।
প্রথম দাবিতে বলা হয়, রাসূলে পাক (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত সম্পর্কিত একটি অধ্যায় পূর্বে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ফ্রন্টের মতে, মহানবী (সা.)-এর রওজা শরীফ জিয়ারত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাই বিষয়টি পুনরায় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
দ্বিতীয় দাবিতে তিন রাকাত বিতির নামাজের বিষয়টি পুনর্বহালের আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটির ভাষ্য, কোরআন-সুন্নাহসমর্থিত তিন রাকাত বিতির নামাজের পরিবর্তে পাঠ্যবইয়ে ৫, ৭ বা ৯ রাকাতের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
তৃতীয় দাবিতে মাজার জিয়ারত, তরিকত ও তাসাওফ সম্পর্কিত পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া ১০টি অধ্যায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। ইসলামী ফ্রন্টের নেতাদের দাবি, এসব বিষয় ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চতুর্থ দাবিতে তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে অনেক অধ্যক্ষ, শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিকে দ্রুত স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
পঞ্চম দাবিতে বলা হয়, আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে কওমি সিলেবাসভুক্ত শিক্ষক নিয়োগের একটি গোপন উদ্যোগ চলছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ইসলামী ফ্রন্টের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ধর্মীয় মূল্যবোধসমৃদ্ধ রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে বিতর্কমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।