রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গণরায় বাস্তবায়ন এবং ফারাক্কা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিতের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। পুরো মাদ্রাসা ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায় অমান্য করে কেউ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নিজেদের ঘোষণার সঙ্গেই সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়েছে।
ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ন্যায্য পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিস্তা ও পদ্মার পানির বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প যেন শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, জনগণ এর বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে তরুণদের অবদানের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বহু মানুষের ত্যাগ ও আন্দোলনের মাধ্যমেই পরিবর্তন এসেছে। নারী-পুরুষ, তরুণ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন সফল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কার, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
নদী ও পানির অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা নদী শুকনো মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং বর্ষায় সৃষ্টি হয় দুর্ভোগ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অভিন্ন নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ এবং এখানে সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে। দেশের শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জান দেব, কিন্তু দেশের মান দেব না ইনশাল্লাহ।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অলি আহমদ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।