সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
Title :
ফেসবুক ইনকামের মোহে হারিয়ে যাচ্ছে কি আমাদের সামাজিকতা ও নৈতিকতা? বিয়ের পর অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী সায়মা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, পুরোনো নেতৃত্বের ওপরই আস্থা বিএনপির অনলাইন ও এসএমএসে জানা যাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগিতে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ভয়েস অফ সিভিল রাইটস ফাউন্ডেশন ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির মাংস পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাসুদ রানা আকন সরকার, ভারত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কঠোর বার্তা দিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জনগণের আস্থা রক্ষায় সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান মাসুদ রানা আকন (Masud Rana Akon) জীবনী- আজকের বার্তা বিডি

আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবস ২০২৬ – নার্স: নীরব ত্যাগের আলোকবর্তিকা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে
তানজুরা তন্নি

মানুষ যখন জীবনের সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন তার পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন একজন নার্স। একজন নার্স শুধু চিকিৎসা সহকারী নন; তিনি সাহসের উৎস, সহমর্মিতার প্রতিচ্ছবি এবং অনেক সময় একজন রোগীর শেষ আশ্রয়।

আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই সব মানুষদের কথা, যারা নিজের ক্লান্তি, কষ্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনের অনেক আনন্দ বিসর্জন দিয়ে প্রতিদিন মানব সেবায় নিয়োজিত থাকেন। হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর, আইসিইউর নিঃশব্দ উৎকণ্ঠা কিংবা জরুরি বিভাগের অস্থির সময়—সবখানেই নার্সদের উপস্থিতি রোগী ও স্বজনদের জন্য এক ধরনের ভরসা হয়ে ওঠে।

আমি একজন নার্স। আমার পরিচয় হয়তো সাধারণ, কিন্তু দায়িত্ব অত্যন্ত গভীর। প্রতিদিন এমন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে জীবন ও মৃত্যুর সূক্ষ্ম সীমারেখায় দাঁড়িয়ে থাকে একজন মানুষ। আর সেই মুহূর্তে একজন নার্স হয়ে উঠেন তার সেবার নীরব শক্তি।

ওষুধ দেওয়া, ইনজেকশন প্রয়োগ, স্যালাইন পরিবর্তন, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ—এসব আমাদের প্রতিদিনের কাজ। কিন্তু এর বাইরেও থাকে মানসিক সাহস দেওয়া, ভয় পাওয়া রোগীকে আশ্বস্ত করা এবং স্বজনদের ধৈর্য ধরতে শেখানো। একজন নার্স অনেক সময় চিকিৎসার চেয়েও বেশি দেন মানবিকতা।

তবে এই পথ সহজ নয়।

রাতের পর রাত নির্ঘুম ডিউটি, ক্লান্ত শরীর নিয়েও দায়িত্ব পালন, পরিবারকে সময় দিতে না পারা—এসবই একজন নার্সের বাস্তব জীবন। অনেক সময় নিজের অসুস্থতাকেও উপেক্ষা করতে হয় দায়িত্বের তাগিদে। কারণ একজন নার্স জানেন, একটি মুহূর্তের অসতর্কতা একটি জীবনের জন্য মারাত্মক হতে পারে।

দুঃখজনকভাবে, সমাজের অনেক জায়গায় এখনো নার্সিং পেশাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। অথচ একজন রোগীর সবচেয়ে বেশি সময় কাটে একজন নার্সের সঙ্গেই। রোগীর কষ্ট, কান্না, ভয় এবং অসহায়ত্ব সবচেয়ে কাছ থেকে অনুভব করেন একজন নার্স। অনেক সময় রোগী বা স্বজনদের রূঢ় আচরণও সহ্য করতে হয়। তবুও তারা দায়িত্ব থেকে সরে যান না।

কারণ নার্সিং শুধু একটি পেশা নয়; এটি মানবতার এক অনন্য প্রতিশ্রুতি।

সব কষ্টের মাঝেও কিছু মুহূর্ত নার্সদের নতুন শক্তি দেয়। যখন কোনো রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন, যখন কারও মুখে হাসি ফিরে আসে—তখন সব ক্লান্তি যেন মিলিয়ে যায়। তখন মনে হয়, আমরা শুধু চেষ্টা করি; প্রকৃত শেফা দান করেন মহান আল্লাহ। জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমরা কেবল তাঁর রহমতের মাধ্যম হয়ে মানুষের সেবা করার সুযোগ পাই।

আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবসে সমাজের প্রতি একটি মানবিক আহ্বান—
নার্সদের সম্মান করুন। তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করুন। তাদের সাথে মানবিক আচরণ করুন। কারণ একজন নার্স শুধু সেবা দেন না; তিনি বহু মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখেন।

নার্সরা হাসপাতালের নীরব যোদ্ধা।
তারা ক্লান্ত হন, তবুও থামেন না।
তারা কষ্ট লুকিয়ে হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করেন।
কারণ তারা জানেন—মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় মানবতা আর নেই।


কলমে: তানজুরা তন্নি
নার্স ও মানবসেবায় নিয়োজিত একজন কর্মী

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews