নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন)
প্রকাশিত:
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
৫৪
বার পড়া হয়েছে
মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন)
নাজিরপুর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েও যিনি দলের প্রতি নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে যাননি, সেই ত্যাগী নেতাকেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চায় নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় যেখানে অনেকেই ভয়-ভীতি, হামলা কিংবা মামলার চাপে রাজপথ ছেড়ে দূরে সরে যান, সেখানে মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন) হয়ে উঠেছেন এক অনন্য উদাহরণ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথচলায় তিনি শুধু একজন কর্মী নন, বরং দলের দূরদিনের পরীক্ষিত সৈনিক।
২০১৭ সালের ৯ মে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেফতার হন মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন)। সে সময় তাকে ২৯ দিন অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে আবারও ৪৩ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে তাকে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি তার জীবনের সংগ্রাম।
এভাবে ১৩টি মামলা, ৪ বার জেল এবং বহুবার জুলুম-হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজপথ থেকে ছিটকে যাননি মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন)। বরং প্রতিটি নির্যাতন তাকে আরও সাহসী ও দৃঢ়চেতা করেছে। জেল-জুলুম ও দমন-পীড়নের ভয় উপেক্ষা করে তিনি বারবার রাজপথে ফিরে এসেছেন দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, “দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে যারা মাঠে থেকেছেন, লিমন ভাই তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কখনো নিজের নিরাপত্তা কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধার কথা চিন্তা করেননি। হামলা-মামলা, জেল-জুলুম সবকিছু সহ্য করেও দলের জন্য কাজ করে গেছেন।”
রাজনৈতিক জীবনে বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন লিমন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে এসে বিএনপি ও যুবদলের কর্মসূচি সফল করতে কাজ করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরও বলেন, “লিমন ভাই শুধু রাজনীতিই করেন না, তিনি মানুষের মন জয় করতে জানেন। তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকেন, ভদ্রভাবে কথা বলেন এবং ছোট-বড় সবাইকে সম্মান করেন। তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। এ কারণেই সাধারণ মানুষও তাকে অনেক ভালোবাসে।”
মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমনের) ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় দিক হলো তার আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ। নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ কারও খোঁজ নেওয়া কিংবা বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া— এসব গুণ তাকে মানুষের হৃদয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে তিনি সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখেন।
নাজিরপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের মতে, একজন প্রকৃত নেতা শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, বরং আচরণ ও ত্যাগের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। আর সেই জায়গায় মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন) ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
তৃণমূল নেতৃবৃন্দের একটাই দাবি— নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। তারা বলেন, “আমরা কোনো নতুন মুখ চাই না। যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য রাজপথে থেকেছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন— তাদের নেতৃত্বেই সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।”
একজন তৃণমূল নেতা বলেন, “লিমন ভাই কখনো পদ-পদবীর রাজনীতি করেননি। তিনি সবসময় সংগঠনকে ভালোবেসে কাজ করেছেন। তাই আমরা চাই, তার ত্যাগের মূল্যায়ন হোক।”
মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন) নিজেও জানিয়েছেন, তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য রাজনীতি করেননি। তার লক্ষ্য সবসময় বিএনপি ও যুবদলকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, “আমি দলের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করেছি। জেল-জুলুম, হামলা-মামলা আমাকে দমাতে পারেনি। বরং প্রতিটি প্রতিকূলতা আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “দলের নির্দেশনা মেনেই কমিটি গঠন করা হোক। যদি আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে আমি নাজিরপুর উপজেলা যুবদলকে আরও শক্তিশালী, সক্রিয় ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করবো ইনশাল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের মাঝে মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন) যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন, তা তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক দক্ষতার ফল। রাজনীতির দুঃসময়ে যারা কর্মীদের পাশে থাকেন, সময়ের পরিক্রমায় তারাই মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
সবমিলিয়ে বলা যায়, মাহমুদুল্লাহ হাসান (লিমন) এখন শুধু একটি নাম নয়, বরং নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় প্রমাণ করে— সত্যিকারের নেতারা কখনো প্রতিকূলতায় হার মানেন না। আর সেই কারণেই আজ নাজিরপুর উপজেলার অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ত্যাগী এই নেতার হাত ধরেই আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হবে নাজিরপুর উপজেলা যুবদল।